জাপানের 'বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড' পেলেন বাংলাদেশের হাসানুর রহমান রাজু

প্ল্যান্ট সাইন্সের অগ্রগতিতে বিশেষ অবদানের জন্য 'বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড' পেয়েছেন বাংলাদেশের রংপুরের পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ড. হাসানুর রহমান রাজু।

প্ল্যান্ট ও সেল ফিজিওলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রটির জন্য 'দ্য জাপানিজ সোসাইটি অব প্ল্যান্ট ফিজিওলজিস্ট' তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে। উক্ত গবেষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু ছিল উদ্ভিদের ভ্রূণ উৎপাদনে প্যারেন্টাল জিনের অবদান। এটি কোষ লেভেলে প্যারেন্টাল জিনের অবদান নিয়ে প্রথম গবেষণা, যা উদ্ভিদের ডেভেলপমেন্ট, উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগ নিরূপণ এবং প্রজননের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।     

দ্য জাপানিজ সোসাইটি অব প্ল্যান্ট ফিজিওলজিস্ট তাদের অফিসিয়াল পেজ থেকে জানায়, এই অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার সম্মানী হিসাবে একটি সনদপত্র ও দুই লক্ষ জাপানিজ ইয়েন প্রদান করা হবে। জাপানে প্রতিবছর প্ল্যান্ট সেল ও ফিজিওলজির বেস্ট গবেষণাপত্রকে তারা এই সম্মাননা প্রদান করে আসছেন। 

ড. হাসানুর রহমান রাজু রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নিজ কাবিলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মোঃ আব্দুল হানিফ ও মোছা: আনোয়ারা বেগম দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় হাসানুর রহমান রাজু। তিনি স্থানীয় বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শেষ করে পলাশবাড়ী সরকারী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সাথে সম্মানসহ মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। 

ড. হাসানুর রহমান রাজু বর্তমানে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত আছেন। তিনি জাপানের টোকিও মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. তাকাসী ওকামোতোর অধীনে ২০১৯ সালে সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। 

বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড মনোনীত হওয়ার পর ড. রহমানের কাছে তার অনুভূতি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এই পুরস্কারটি আগামীতে আমাকে আরও ভালো গবেষণা করতে অনুপ্রাণিত করবে।'

তিনি গবেষণার পরিকল্পনার ব্যাপারে বলেন, 'বর্তমানে নিরাপদ ও টেকসই খাদ্য উৎপাদন নিয়ে কাজ করছি। এছাড়াও আইভিএফ পদ্ধতিতে জিন শনাক্ত ও কার্যকারিতা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বন্যা, খরা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন বিষয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা রয়েছে।'   

প্ল্যান্ট সেল ও ফিজিওলজি জার্নালে উক্ত গবেষণাপত্রটি ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় যা যাচাই-বাছাই শেষে ২০২১ সালে এসে বেস্ট অ্যাওয়ার্ড হিসেবে মনোনীত হয়। 

উল্লেখ্য, দ্য জাপানিজ সোসাইটি অব প্ল্যান্ট ফিজিওলজিস্ট জাপানের বৃহত্তর উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের সংগঠন। সংগঠনটি ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

মন্তব্য লিখুন :