ফরিদপুরে লকডাউনে লাঠিপেটাকে কেন্দ্র করে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে নিহত ১

ফরিদপুরের সালথায় লকডাউন চলাকালে ফুকরা বাজারে এসিল্যান্ডর এক সহকারীর লাঠিপেটা করাকে কেন্দ্র করে সালথা থানা ও উপজেলা পরিষদের সরকারি-বেসরকারি অফিস ও বাসায় হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। 

হামলাকারীরা ইউএনও ও এসিল্যান্ডের গাড়ীসহ কয়েকটি মটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়। একই সাথে হামলাকারীরা উপজেলার ভিতর থেকে বস্তায় করে বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। 

পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে রামকান্তপুর এলাকার জুবায়ের নামে এক যুবক নিহত হয়। এসময় গুলিবিদ্ধ হয় আরও তিন থেকে চারজন। তাদেরকে ঢাকা ও ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন আমির, মিরান ও মামুন।  

জানা যায়, সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে চা খেয়ে ওই ইউনিয়নের নটাখোলা গ্রামের মৃত মোসলেম মোল্যার ছেলে মো. জাকির হোসেন মোল্যা বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় সেখানে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে আসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামনি উপস্থিত হন। কথা না শোনায় তার সাথে থাকা এসিল্যান্ডের এক সহকারী লাঠিপেটা করে তাকে। জাকির হোসেনকে আহত করার খবরে সেখানে উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে উঠে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে আরও গ্রামবাসী জড়ো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেখানে সালথা থানার এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপস্থিত হয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপরেও হামলা চালায়। এতে এসআই মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়। পরে সেখান থেকে তারা চলে গেলে কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ লোকজন থানা ও উপজেলায় হামলা করে। হামলায় ইউএনও এর বাসভবন, হলরুম সহ থানায় হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ইউএনও এর দুটি গাড়ী ও বেশ ক'টি মটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আলিমুজ্জামান বলেন, লকডাউনের প্রথম দিনে সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে জনতার সঙ্গে কর্মকর্তাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়। তর্কে-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয়রা এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা পরিষদ, থানা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনসহ বিভিন্ন অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

পরে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় পুলিশ পর্যাপ্ত ফাঁকা গুলি, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পাশের থানা ও জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশ ও র‍্যাব এর আটজন সদস্য আহত হয় বলেও তিনি জানান।   

মন্তব্য লিখুন :