চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই যুবককে হাত-পা বেঁধে ‘হত্যাচেষ্টা’

ঢাকার ধামরাইয়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এঘটনায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যানসহ ১০ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে।

আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সূত্রাপুর চৌরাস্তা এলাকায় এই মারধরের ঘটনা ঘটে। ইসরাফিল হোসেন মোটরসাইকেল চালিয়ে এলে অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায় চেয়ারম্যান মজিবর রহমানের সমর্থকেরা।

আটককৃতরা হলেন- বালিয়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মজিবর রহমান (৪৫) ও তার ভাতিজা সিয়াম (২০), সূত্রাপুর শান্তি কমিটির সভাপতি আব্দুল মজিদ (৭০), মজিদের ছেলে সামছুল হক (৪৫) ও নাতি সিহাব (১৭), পশ্চিম সূত্রাপুর মসজিদের সভাপতি মজিবর (৭০), রাজন (৩৫), শামীম (২৫), নাছিমা আক্তার (৩২), রাশেদা বেগম (২৭)। এরা সবাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা।

আহত ইসরাফিল হোসেন (৩২) একই এলাকার শামছুল ইসলামের ছেলে। তিনি সাটুরিয়া উপজেলার একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে মজিবর রহমানের নেতৃত্বে তাঁর কয়েকজন কর্মী ইসরাফিল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশে হাত-পা বেঁধে মারধর করে। পরে এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পরলে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ইসরাফিল কে উদ্ধারের চেষ্টা করে। কিন্তু মজিবর রহমানের লোকজন দেশীয় অস্ত্র হাতে তাঁদের পাল্টা ধাওয়া করে। এতে ওই ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান মজিবর রহমানসহ ১০ জন কে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ভুক্তভোগী যুবকের ভাই রবিউল আউয়াল বলেন, তার ভাই ইসরাফিল একজা ইট ব্যবসায়ী। গেল ইউপি নির্বাচনে সে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মজিবর রহমানের প্রতিপক্ষকে সমর্থন করেছিলো। এরই জেরে আজ বেলা ১২টার দিকে চেয়ারম্যান মজিবর তার লোকজন পাঠিয়ে ইসরাফিলকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তার ভাইকে সূত্রাপুর বাজারে হাত-পা বেধে লাঠি ও রড দিয়ে বেধরক পেটানো হয়। এসময় স্থানীয়দের খবরে পুলিশের ৪-৫টি গাড়ি উপস্থিত হলে চেয়ারম্যান এলাকার মসজিদে মাইকিং করে আতঙ্ক ছড়ায়। এমনকি যার যা আছে তাই নিয়ে বাজারে হামলা করতে বলে চেয়ারম্যান মজিবর। পরে পুলিশ চেয়ারম্যানসহ তার ৮-৯জনকে লোককে ধরে থানায় নিয়ে যায়। আমি এখন থানায় এসেছি অভিযোগ দিতে।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়াহেদ পারভেজ বলেন, বালিয়া এলাকায় ইসরাফিল নামে একজনকে হাত-পা বেঁধে মারধরের ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মজিবর রহমানকে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘তাঁকে (চেয়ারম্যান) থানায় আনা হয়েছে। যদি ভুক্তভোগী অভিযোগ দেয় তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হবে।’

মন্তব্য লিখুন :