সিসিটিভি বসানোর উদ্যোগ নিয়ে মারধরের শিকার, প্রতিবাদে মানববন্ধন

পৌর শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মহল্লায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেয়ায় ঢাকার ধামরাইয়ে ৩ যুবককে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচার দাবি করেছে এলাকাবাসী।

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) উপজেলার থানা রোড এলাকায় উপজেলার বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। এতে ধামরাইয়ের বিভিন্ন সংগঠন ও জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ড এলাকায় 'অপরাধ প্রবণতা নির্মুলে' এলাকাজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন 'দক্ষিণপাড়া যুব উন্নয়ন কমিটি'। গত ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ৩ জন উদ্দোক্তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করে আওয়ামী লীগ নেতা দিদারসহ কয়েকজন। এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলরসহ এলাকাবাসী এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে।

মানববন্ধনে মাদক নির্মূল ও সন্ত্রাস দমনে যুবকদের নেয়া উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ধামরাই পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমিনুল হাসান গার্নেল বলেন, যে কাজটি প্রশাসনের করার উচিত ছিলো। যে কাজটি পৌরসভার কাউন্সিলর, মেয়রের করার কথা ছিলো। সেটি আমরা পারিনি। সেই উদ্যোগটি নিয়েছে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের তরুণ সমাজ। তারা মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী, চাঁদাবাজি ও অন্যায়কারীদের অপরাধ রোধ করতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা বসালে যাদের অসুবিধা হয় তারা এই মহৎ উদ্দোক্তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা তাদের শাস্তি দাবি করছি। আপনারা জানেন এই যুব সমাজ এর আগেও দক্ষিণপাড়ায় অনেক সামাজিক কাজ করেছে। এই সন্ত্রাস বাহিনী যারা আছে বিশেষত দিদার গং, যারা আমার যুব সমাজকে মেরেছে। তাদের সুষ্ঠু বিচার চাই।

ধামরাই সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, সরকারের ভিশন ছিলো ২০২১ সালের মধ্যে স্বনির্ভর, সন্ত্রাস মুক্ত দেশ গড়ার। আজকে এই সময়ে ২১ সালের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে হচ্ছে। আজকে সন্ত্রাস, মাদক আমাদের সমাজকে গ্রাস করে ফেলছে। দক্ষিণ পাড়া আয়োজিত মানববন্ধন পুরো ধামরাইয়ের সন্ত্রাসীদের প্রতি হুশিয়ারি। আমরা সুন্দর সুশৃঙ্খল ধামরাই গড়তে চাই। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যারা যেনো ঘৃণিত নৃশংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের প্রতিহত করা হয়।

এ বিষয়ে লায়ন্স ক্লাব অফ ঢাকা সেঞ্চুরির সভাপতি ডিএইচ শামীম বলেন, আমরা সবাই মাদকের বিরুদ্ধে নিজ নিজ জায়গা থেকে সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। যারা প্রকৃত দোষী তারা শাস্তি পাক, সেটা আমাদের কাম্য। যুব সমাজ যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে আমরা ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই। আমরা তাদের সঙ্গে আছি। পাশে আছি। একইসঙ্গে আমরা চাই না কোন নিরপরাধ মানুষ শাস্তি পাক। যারা প্রকৃত দোষী তাদের বিচার হোক। সুমন নামে যে ছেলেটাকে মারা হয়েছে, সে অত্যন্ত ভালো ছেলে। পৌরসভা সিসিটিভি ক্যামেরা আসলে আমাদেরই ভালো।

মানববন্ধনে ধামরাইয়ের দক্ষিণ পাড়া সমাজ কল্যান সমিতির সভাপতি খন্দকার আবুল মুকুট, ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, যুবলীগ নেতা দুলাল চন্দ্র সরকার, মন্দির কমিটির সভাপতি জগদীশ সরকারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়।

মন্তব্য লিখুন :