টমেটোর বাজারে ধস, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

ধামরাই উপজেলায় টমেটোর দাম এতটাই কমেছে যে কৃষক টমেটো বিক্রি করতে পারছে না। এতে জমিতেই নষ্ট হচ্ছে শত শত মণ টমেটো। টমেটোর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় জমিতে নষ্ট হচ্ছে টমেটো আবার কোন কোন কৃষক টমেটো ফেলে দিচ্ছেন নদীতে।

সরেজমিনে ধামরাই উপজেলার মাখুলিয়া, সীতিপাল্লী, আড়ালিয়া, সাচনা, কেলিয়া, বাসনা, খরারচর, গাঙ্গুটিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জমির গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা টমেটো। তবে বাজারে দাম না থাকায় উত্তোলনে আগ্রহ নেই কৃষকদের। প্রতিটি জমিতেই নষ্ট হচ্ছে শত শত কেজি টমেটো।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, যারাই টমেটো উত্তোলণ করে বাজারজাত করছেন তাদের ৫০ থেকে ৬০ টাকা মণ ও দেড় থেকে দুই টাকারও কম কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে মিলছে না উত্তোলণ খরচও।

ধামরাইয়ের খড়ারচর গ্রামের তরুণ উদ্যমী কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, পড়াশোনা শেষে উদ্যোক্তা হওয়ার আশায় গ্রামে এসে ৬০ হাজার টাকা খরচ করে চার বিঘা জমিতে টমেটোর চাষ করেছেন তিনি। ফলনও হয়েছে বাম্পার। কিন্তু বাজারে আশানুরূপ দাম না থাকায় জমিতেই তার সব টমেটো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, টমেটোর ভালো ফলন দেখে আশা করেছিলাম, খরচ বাদে এবার দেড় থেকে দুই লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করব। কিন্তু ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজির টমেটো এখন দুই টাকায়ও কিনছেন না। লাভ তো দূরের কথা, খরচের টাকাও উঠবে না।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ধামরাই উপজেলায় এবার ২৪০ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন।

সীতিপাল্লী ও সাচনা এলাকার আব্দুর রহমান, ইন্তাজ আলী, মুন্নাফ আলীসহ কয়েক কৃষক জানান, তাদের আবাদকৃত টমেটো বেশিদিন মজুদ রাখতে এ এলাকায় সরকারি কোল্ডস্টোর স্থাপনসহ সরকারি ঋণ ও সার-বীজ সুবিধা দেওয়া না হলে আগামীতে আর টমেটো চাষ করবেন না।

তবে ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হাসান জানান, এবার টমেটোর ভালো ফলন হওয়ার কারণেই বাজারে দাম কমে গেছে। তবে কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এগুলো সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করা যেতে পারে। তবে হিমাগার স্থাপনে আপাতত কৃষি বিভাগের কোনো কার্যক্রম নেই।

মন্তব্য লিখুন :