ভোগ্য পণ্যের বাজারে আগুন

রোজাকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম দফায় দফায় বেড়ে চলেছে। বেছে বেছে বেশ কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিংকর্তব্যবিমূর হয়ে পরেছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সাধারণ ক্রেতারা।

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলাই নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারে দেখা গেছে এমন অস্থিরতা। অভিযোগ উঠেছে, রোজাকে সামনে রেখে বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুজুক বুঝে পকেট কাটছেন ক্রেতাদের।

সকালে বাজার করতে আসা ছাইদুল ইসলাম ক্ষোভের সাথে জানান, ’দেখেন ব্যাগ খালি.! পকেটে টাকা কম থাকায় অর্ধেক বাজার করতে হলো। এভাবে সকল জিনিসের দাম বাড়লে আমাদের না খেয়ে দিন কাটাতে হবে। 



এছাড়াও তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ’জনগণের দিকে কেউ তাকায়না ভাই। ব্যবসায়ীরা জনগণের পকেট কাটছে অথচ দেখার কেউ নাই’।

বিগত দুই-এক মাস আগে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম ক্রেতা সাধারণের নাগালের মধ্যে থাকলেও রোজা যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে সবজিসহ ভোগ্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে রোজায় যে কয়েকটি সবজির চাহিদা বেড়ে যায় সেগুলোর দাম বাড়তে শুরু করেছে এখনই। শসা কেজিতে ১৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা, বেগুন ২৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ২৫ টাকা থেকে বেড়ে একলাফে হয়েছে ৫০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ১৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা।

খুঁচরা বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা গেছে, চিনি ৬০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা, সয়াবিন তেল ৯০ থেকে ১৩০ টাকা, সরিষা তেল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, আটা ২৮ টাকা থেকে বেড়ে ঠেকেছে ৩০ টাকায়।



তবে ভালো মানের চিকন চাল কেজি প্রতি ৬৫ থেকে কমে হয়েছে ৬০ টাকা, মোটা চাল ৫০ থেকে ৪৪ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা থেকে কমে গিয়ে এখন ৬০ টাকায় খুচরা বাজারে বিক্রয় হতে দেখা গেছে।

মুরগির বাজার দর অনেকটা কমতে শুরু করায় ব্রয়লার মুরগি ১৪৫ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৩০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২১০ থেকে কমে ১৭৫ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ২৪০ টাকা কমে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি মুরগি ৩২০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ঠেকেছে ৪০০ টাকায়।

উপজেলাই সপ্তাহে একদিন (রবিবার) বসে বড়ো পরিসরে হাট-বাজার। এদিন গ্রাম থেকে আসা সাধারণ দোকানিরা পটোল, ধুন্দল, শিম, বটবটি, ঢেঁরস, ফুলকপি, বাধাকপিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় তরকারী বাজার আগের সপ্তাহের চাইতে অনেক কম দামে বিক্রি হতে দেখা গেলেও সন্ধার সময় হঠাত করেই ৩০ টাকার পেঁয়াজ এক লাফে বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। অন্যদিকে ৪০ টাকার রসুন ৬০ থেকে প্রকার ভেদে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ সময় হাটে পাইকারী পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আবু সামা জানান, হাটে বিক্রয়ের জন্য ২০ বস্তা পেঁয়াজ এনেছিলাম। হিলি থেকে কেনা ভারতীয় লাল পেঁয়াজ ২৬ টাকা ও দেশী ৩০ টাকায় পাইকারী বিক্রি করেছি। কিন্তু হাটে হঠাত করে পেঁয়াজের উপর ক্রেতাদের চাপ বেড়ে যায়। লকডাউনের কথা শুনে একেক জনকে ৫ থেকে ১০ কেজি পেঁয়াজ অতিরিক্ত কিনতে দেখা গেছে। তাই কিছুটা দামও বেড়ে গিয়েছিল।

হাটে বিকন্দ খাস গ্রাম থেকে আসা সবজি বিক্রেতা ইসাহাক এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, গত হাটের চাইতে আজকের হাটে সবজির দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বিক্রি করেছি।

অথচ স্থানীয় সবজি বিক্রেতারা জানান, ’রবিবারের হাটে হঠাত করেই সকল পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। কাঁচা মালের দাম বেশি হওয়ায় আমাদেরকেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গনপতি রায় এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা মাঠে কাজ করছি। যারা দাম বেশি নিচ্ছেন তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন :