৪৫ বিলিয়ন ডলারের আকাশচুম্বী রেকর্ড

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও রেকর্ড সংখ্যক বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে দেশে। ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার মজুত প্রথমবারের মতো ৪৫ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে এত প্রবৃদ্ধি এর আগে কখনই হয়নি।

প্রবাসীরা গত দুই দিনেই অর্থাৎ ১ ও ২ মে ১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে এপ্রিল মাসে ২০৬ কোটি ৭০ লাখ (২.০৭ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন তারা। যা গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ৮৯ শতাংশ বেশি। গত বছরের এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০৯ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার হিসেবে ১১ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। যেকোন দেশে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়। আর বাংলাদেশের কাছে আছে ৮ মাসের অতিরিক্ত রিজার্ভ। 

রিজার্ভের তথ্য তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে বলে আশা করি।

এর আগে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৪৪ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন বা চার হাজার ৪০২ কোটি ডলার। আর ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন, ১৫ ডিসেম্বর ৪২ মি‌লিয়ন এবং ২৮ অক্টোবর রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল।

এদিকে ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। অর্থাৎ কোনো প্রবাসী এক লাখ টাকা দেশে পাঠালে এর সঙ্গে আরও দুই হাজার টাকা যোগ করে মোট এক লাখ দুই হাজার টাকা পাচ্ছেন তারা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি আরও এক শতাংশ অর্থ অফার দিচ্ছে। এতে করে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

করোনা পরিস্থিতির জন্য ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।  চলতি অর্থবছরেও এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, নগদ প্রণোদনার জাদুতেই করোনার মধ্যেও রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বগতি ধারা বজায় রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বগতি ধারা বজায় রয়েছে। এর অন্যতম কারণ সরকারের ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা। এছাড়া প্রতিবছর রোজা ও ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের কাছে একটু বেশি অর্থ পাঠান। করোনা সংক্রমণ বাড়লেও এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। 

মন্তব্য লিখুন :