জাতীয় বাজেট ২০২১-২০২২ এর খুঁটিনাটি

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পেশ হচ্ছে জাতীয় সংসদে। এই অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বেলা ৩টার দিকে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামে  অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন। 

জেনে নেওয়া যাক বাজেটের খুটিনাটি:

  • বাজেট ঘোষণা– ৩ জুন ২০২১
  • বাজেট পাশ– ৩০ জুন ২০২১
  • বাজেট কার্যকর– ১ জুলাই ২০২১
  • বাজেট– ৫০তম (একটি অন্তর্বর্তী কালীন বাজেটসহ ৫১তম )।
  • ঘোষক– অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মুস্তফা কামাল (অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার ৩য় বাজেট এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ২১তম বাজেট)।
  • মোট বাজেট– ৬,০৩,৬৮১ কোটি টাকা।
  • ঘাটতি বাজেট– ২,১৪,৬৮১ কোটি টাকা।
  • মোট আয়– ৩,৩০,০০০কোটি টাকা।
  • জিডিপি প্রবৃদ্ধি– ৭.২%।

আগামী অর্থবছরে বাজেটে (২০২১-২০২২) নতুন এডিপির আকার ২,২৫,৩২৪ কোটি টাকা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার

২০২১–২২ অর্থবছরের বাজেটে এ ADP (Annual Development Programme) 

কোথায় থেকে আসবে এডিপিঃ

সরকারি কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা বা মোট এডিপির ৬১ শতাংশ। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ মিলবে ৮৮ হাজার ২৫ কোটি টাকার। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির চেয়ে আগামী অর্থবছরের এডিপির পরিমাণ ২০ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা বেশি।

প্রকল্পসমূহঃ

আগামী অর্থবছরের এডিপিতে মোট ১৫১৫টি নতুন প্রকল্প যুক্ত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ৩০৮টি। কারিগরি সহায়তার প্রকল্প ১১৮টি এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে এমন প্রকল্প ৮৯টি। 

এ ছাড়া আগামী অর্থবছরের এডিপিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপিতে ৮৮টি প্রকল্প রাখা হচ্ছে। যদিও গত কয়েক বছরে এডিপিতে পিপিপি খাতে প্রকল্প রাখা হলেও কাঙ্ক্ষিত হারে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরের এডিপিতে ৬৭৮টি প্রকল্প রাখা হয়েছে, যেসব প্রকল্প আগামী অর্থবছরের মধ্যেই শেষ করতে হবে।

খাত ভিত্তিক/মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দঃ

১.নতুন অর্থবছরের বাজেটে সবচেয়ে বেশি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এ খাতের জন্য ৬১ হাজার ৭২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

২.বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। এই খাতে ৪৫ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলে যাওয়ায় এই খাতে বরাদ্দ বাড়ছে।

৩. তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে গৃহায়ণ খাতে, ২৩ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। 

৪.চতুর্থ অবস্থানে আছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ২৩ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা।

৫.স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পাচ্ছে ১৭,৩০৬ কোটি টাকা।চলতি অর্থবছরের চেয়ে আগামী অর্থবছর ৪ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার ৩৩ কোটি টাকা।

মেগাপ্রকল্পে বরাদ্দঃ

১. আগামী অর্থবছরের বাজেটে পদ্মা সেতুর বিপরীতে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা কমিশন। 

২. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। আগামী অর্থবছরের বাজেটে একক প্রকল্প হিসেবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে।

৩. বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে মেট্রোরেল প্রকল্পটি। যার পরিমাণ ৪ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা। 

৪. তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। 

৫. এ ছাড়া পদ্মা রেলসংযোগ প্রকল্প ৩ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা।

৬. দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে ১ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, 

৭. পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণে ১ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা

৮. পায়রা বন্দর বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে ১ হাজার ১০৯ কোটি টাকা।

বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দঃ

  • করোনা প্রনোদনা প্যাকেজ– ১০,০০০ কোটি টাকা।
  • কৃষি ভর্তুকি ৯৫০০ কোটি টাকা।
  • সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ১ লাখ কোটি + টাকা
  • প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা ৫০০০ কোটি টাকা।
  • বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সম্মানি ৫৭০০ কোটি টাকা।

মন্তব্য লিখুন :