হদিস নেই গ্রাহকের ৩৩৯ কোটি টাকার, মামলার সুপারিশ

গ্রাহক ও মার্চেন্টদের থেকে অগ্রিম নেয়া ইভ্যালির ৩৩৯ কোটি টাকার কোনো হদিস মিলছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ অর্থ আত্মসাৎ বা অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তদন্ত সাপেক্ষে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠািনটি।

গত ৪ জুলাই ইভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে চার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

ইভ্যালি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করা পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান।

ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭ কোটি টাকা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রাহকের থেকে অগ্রিম হিসেবে ২১৪ কোটি টাকা এবং মার্চেন্টদের থেকে বাকিতে পণ্য বাবদ ১৯০ কোটি টাকা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের কাছে ৪০৪ কোটি টাকা থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকা।

চিঠিতে এসব তথ্য উল্লেখ করে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে আর্থিক অনিয়ম পেলে দুদককে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। চলমান লকডাউন শিথিল হলেই তদন্ত কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে দুদক সূত্র।

টাকা নিয়েও পণ্য না দেয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে। এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন অধিদপ্তরটির মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা। তিনি বলেন, ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতিদিনই অভিযোগ আসছে, নিষ্পত্তিও করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্যগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের দেনা শোধ করা ইভ্যালির পক্ষে সম্ভব হবে না।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল বলেছেন, টাকা পাচার বা আত্মসাৎ করেনি তার প্রতিষ্ঠান। ব্যবসার উন্নয়ন খাত, ডিসকাউন্টে পণ্য বিক্রি এবং বেতন-ভাতা দেয়ায় অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ নিয়ে এইভাবে চিঠি দেয়া হলো কেন, তা বুঝতে পারছি না আমরা।

তবে মূলধনে ঘাটতির কথা অস্বীকার করছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিন খাতে অর্থ ব্যয়ের জন্য ঘাটতি হয়েছে, যা পূরণ করতে অংশীদার খোঁজা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন :