আন্তর্জাতিক মেগা মিডিয়া কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি ড. শেখ শফিউল

'তথ্য, যোগাযোগ ও কৃত্রিম নেটওয়ার্ক ২০২১' এর মেগা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ শফিউল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকাল পাঁচটায় বিশ্বের প্রথম দশ দিন ব্যাপী মিডিয়া কনফারেন্সটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন যোগাযোগ কৌশল ও প্রযুক্তির উদ্ভাবন হচ্ছে। এসব প্রযুক্তি, করোনার মত মহামারির সময়েও মানুষকে পারষ্পরিক ভাবের আদান-প্রদানে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। মানবীয় যোগাযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজন ঘটছে। এতে যোগাযোগ ক্ষেত্রের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের স্থান দখল করতে চলেছে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা।

এসময় বক্তারা আরও বলেন, মানুষ ও মানবসৃষ্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়-দায়িত্বের ক্ষেত্র নির্মাণ করতে হবে। এতে যোগাযোগ ক্ষেত্রে মানুষের কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে যাবে এবং সেই সাথে প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে মানবজাতির কল্যাণ বয়ে আনা সম্ভব হবে। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. শেখ শফিউল ইসলাম বলেন, নতুন নতুন যোগাযোগ প্রযুক্তি এখন সময়ের দাবি। তবে কোনো উচ্চতর প্রযুক্তি গ্রহণের আগে সমাজের মানুষকে সেই সম্পর্কে যথাযথভাবে তৈরি করতে হবে। নইলে টিকটক, লাইকির মত বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভিন্ন সমাজে যে অবক্ষয় সৃষ্টি করেছে তার ক্ষত আরও গভীর হবে। তিনি যোগাযোগ প্রযুক্তি গ্রহণের সাথে সাথে সেগুলোতে সাধারণ মানুয়ের অংশগ্রহণ ও ‘মিডিয়া লিটারেসির’ উপরও জোর দেন।  

দিল্লি মিডিয়া স্কুল এবং অস্ট্রেলিয়ার ডিকীন ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে চতুর্থবারের মত আইকেন সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তথ্য, যোগাযোগ ও কৃত্রিম নেটওয়ার্কের ওপর জ্ঞানগর্ভ আলোচনার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

বিশ্বের পাঁচটি মহাদেশের এগারোটি দেশের ৬০ জন গবেষক সম্মেলনটিতে আমন্ত্রিত হয়েছেন। যেখানে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইটালি, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া ও ঘানার ১০০ গণমাধ্যম শিক্ষক, পেশাজীবী ও গবেষক এই সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। দশদিনব্যাপী এ সম্মেলনে নয়টি টেকনিক্যাল সেশন, তিনটি ওয়ার্কশপ, সাতটি প্যানেল ডিসকাশন, তিনটি স্পেশাল সেশন ও দশটি মাস্টারক্লাস আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত এই সম্মেলন আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য গবেষক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীদের নিজস্ব গবেষণাকর্ম উপস্থাপনের জন্য একটি প্লাটফর্ম তৈরি করা। সম্মেলনটি শিক্ষা ও শিল্পখাতের মানুষদের মিথস্ক্রিয়ার জন্য অন্যতম একটি মাধ্যম, যা মানবীয় যোগাযোগের বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবন ও সেই বিষয়ে মত বিনিময়ের মাধ্যমে মানব জাতির উন্নতির জন্য কাজ করে চলেছে।

মন্তব্য লিখুন :