সখিপুরে একাধিক বিদ্যালয়ে নেই দপ্তরি

দপ্তরি বিহীন বিদ্যালয়ে শিক্ষকরাই করছেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ

টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলায় ১৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৯টি বিদ্যালয়ে দপ্তরি নেই। এ অবস্থায় বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই নেমে গেছেন বিদ্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করার অভিযানে।

মাত্র কয়েকদিন পরই ১২সেপ্টেম্বর খুলছে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। চলছে ধোয়ামোছাসহ নানা প্রস্তুতিমূলক কাজ যা অনেকটা শেষের দিকে।

সখিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারি ঘোষণার পর থেকে উপজেলার ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৭টি মাদ্রাসা, কারিগরিসহ ১০টি কলেজ (উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত) খোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সখিপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের চাম্বলতলা, বেলতলী ধলীপাড়া, দেবলচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শিক্ষকেরাই শ্রেণিকক্ষ ধোয়ামোছা করছেন।

বেলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চারজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দিচ্ছেন। শিক্ষক কামরুননাহার বলেন, দেড় বছর যাবত বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়ের নলকূপটি বিকল হয়ে আছে। দুদিনের ভেতর মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে।

উপজেলার চাম্বলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষক রয়েছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

সহকারী শিক্ষক শেফালী আক্তার বলেন, আমরা নিজেরাই বালতিতে পানি নিয়ে বেঞ্চ সহ বিভিন্ন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজ করছি। শ্রেণিকক্ষ ও আঙিনা ঝাড়ু দিয়েছি। তবে ঝোপঝাড় পরিষ্কারের জন্য দুজন শ্রমিক নেওয়া হয়েছিল।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিনা আক্তার বলেন, তাঁদের বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকের (শৌচাগারের) কাজ চলছে। করোনার কারণে এক বছর ধরে ঠিকাদার কাজ করছে না। ফলে স্কুল খুললে প্রাকৃতিক কাজ সারতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের পাশের গৃহস্থ বাড়িতে যেতে হবে। করোনার সময়ে এটা একটা সমস্যা।

সখিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল জানান,৭৯টি বিদ্যালয়ে দ্রুত দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগের জন্য তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।

এছাড়া তাঁরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, তাপমাত্রার মেশিন ও একটি আলাদা আইসোলেশন কক্ষ ঠিক করে রেখেছেন। স্কুল খোলার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম বলেন, ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুত রাখতে সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী না থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লোক নেই, তাদের দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শ্রমিক নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। স্কুল খোলার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন :