৩য় পর্ব

রূপের অন্তরালে রানী ক্লিওপেট্রাঃ তৃতীয় খন্ড

ক্লিওপেট্রার রূপের ইতিহাস যেরকম রহস্যময় ঠিক তেমনি তার মৃত্যুও রহস্যময়। আজ থেকে দুহাজার বছর আগের একটি মৃত্যু রহস্য এখনো ভাবিয়ে চলেছে গবেষকদের। ইতিহাস বিখ্যাত রানী, বিশ্বসেরা সুন্দরী সপ্তম ক্লিওপেট্রা ফিলোপেটর মৃত্যু।

এ পর্যন্ত কোনও তথ্য-প্রমাণই যথেষ্ট নয়। আসলে ক্লিওপেট্রার ৩৯ বছরের জীবন যতটা নাটকীয় ছিল তার থেকে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার মৃত্যু। যা আজও রহস্যময়।

বছর দশ আগে ক্লিওপেট্রার সম্পূর্ণ জীবনী লিখেছেন মার্কিন লেখিকা স্ট্যাসি মেডেলিন শিফ। তার বইতে অক্টিয়াম যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মার্ক অ্যান্টনি এবং ক্লিওপেট্রা দল বল নিয়ে আলেকজান্দ্রিয়ায় ফেরেন। কারো মতে, ক্লিওপেট্রা এবং মার্ক অ্যান্টনি যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

আবার কারো মতে, মার্ক অ্যান্টনি রোমান সাম্রাজ্যে নিজের ক্ষমতা হারানোয় ক্লিওপেট্রা তাকে হত্যা করার জন্য নাটক সাজাতে গিয়ে এসব করিয়েছেন। আবার এরকম ও শোনা যায় যে, ক্লিওপেট্রা সম্রাট অক্টাভিয়ান কাছে হেরে যাওয়ার পরে, আবারও সে তাঁর রূপের মায়ায় এবং তার চোখের নেশাই ফেলতে চেয়েছিলো।

কিন্তু অক্টাভিয়ান তার বাবার প্রেমিকার চোখের দিকে একবারও তাকায়নি। কারণ সে জানতো যে একবার তাঁর চোখের দিকে তাকালেই সে তাঁর মোহে পরে যাবে। আর সে সব হারাবে। যার কারণে অক্টাভিয়ান তাকে তিরষ্কার করে এবং জেলে আটকিয়ে রাখে। আর এই অপমান সহ্য করতে না পেরে ক্লিওপেট্রা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় এরকমটাই শোনা যায়।

খ্রিস্টপূর্ব ৩০ সাল বন্দি ক্লিওপেট্রা বিষাক্ত অ্যাম্পের কামড় খেয়ে আত্মহত্যা করেন। কথিত আছে এই সাপ তাঁর কাছে ডুমুরের ঝুড়িতে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ক্লিওপেট্রার মৃত্যু যেটা আমাদের মত আম-আদমির কাছে গল্প ছাড়া কিছুই না। এরপরের অধ্যায়টা পুরোপুরি রহস্যে মোড়া। সেই যে হারিয়ে গেলেন ক্লিওপেট্রা, তাঁর কবরের খোঁজ ও মিলল না।

জনশ্রুতি, অ্যান্টনির সঙ্গেই তাঁকে সমাধি দেওয়া হয়েছিল। অনেকের বিশ্বাস আলেকজান্দ্রিয়াতেই সমাহিত করা হয় ক্লিওপেট্রাকে। ৩৬৫ খ্রিস্টাব্দে সুনামিতে ধ্বংস হয় এই শহর। অনেকে আবার মানেন, আলেকজান্দ্রিয়ার অদূরে নীল নদের অববাহিকায় ট্যাপোসিরিস ম্যাগনায় রয়েছে তাঁর সমাধি।

এই দাবিতে সম্মতিও দিয়েছেন গবেষকরা। কারণ সম্প্রতি সেখানে একটি সমাধি আবিষ্কার করেছেন পুরাতত্ত্ববিদরা। সেখানে রয়েছে ২০০০ বছরের পুরোনো দু’টি মমি। এই মমি দু’টি সোনার পাতে মোড়া।

পুরাতত্ত্ববিদদের দাবি, তৎকালীন মিশরীয় সমাজের উচ্চ পদস্থদের এভাবে সমাহিত করা হত। এক্সরে করে দেখা গিয়েছে মমি দু’টির মধ্যে একটি পুরুষ। অন্যটি নারী। সোনার ওই পাতে কিছু গোবরে পোকার ছবি পাওয়া গিয়েছে। যা মিশরে পুনর্জন্মের প্রতীক। এর থেকে পুরাতত্ত্ববিদদের অনুমান, এগুলি তৎকালীন মিশরের কোনও ক্ষমতাশালী পুরোহিতের।

যাদের সঙ্গে ক্লিওপেট্রার যোগাযোগ ছিল। মমির পাশে কিছু মুদ্রাও পাওয়া গিয়েছে, যা ক্লিওপেট্রার সময়ের। এই দলের প্রধান, লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশরীয় বিদ্যার অধ্যাপক গ্লেন গডেনহো জানান, ২০০০ বছর পুরোনো ওই মমি দু’টি।

তাই সেগুলির পরীক্ষায় কিছুটা সময় লাগবে। তবে মমি দু’টি যে ভাবে সোনার পাতে মোড়া ছিল, তাতে পরিষ্কার, সেগুলি তৎকালীন মিশরের কোনও ক্ষমতাশালী ব্যক্তির।

টোপোসিরিস ম্যাগনায় ১৪ বছর ধরে খনন কাজ চালাচ্ছেন ক্যাথলিন মার্টিনেজ। তিনি ও আশাবাদী ওই এলাকায় অচিরেই খোঁজ মিলবে ক্লিওপেট্রার সমাধির। কারণ ওই এলাকার খুব কম অংশেই এখনও খনন কাজ চালানো সম্ভব হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :