এরিস্টটল এবং তাঁর অমর বাণী

এরিস্টটল (খ্রিষ্টপূর্ব ৩৮৪ – ৭ই মার্চ, খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২) বিশ্ববিখ্যাত গ্রিক বিজ্ঞানী ও দার্শনিক। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৩৮৪ সালে থারেস উপকূলবর্তী স্টাগিরাস নামক এক গ্রিক উপনিবেশে জন্মগ্রহণ করেন।

শৈশবে তাঁর বাবা মারা যান, এবং ১৭ বছর বয়সে তার অভিভাবক প্রোক্সেনাস তাকে এথেন্সে জ্ঞানার্জনে পাঠিয়ে দেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৪৭ সালে প্লেটোর মৃত্যুর পর অ্যারিস্টটলই একাডেমীর প্রধান হবার যোগ্য ছিলেন। তাকে প্রাণীবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

শাস্তি থেকে রক্ষা পাবার জন্য দ্রুত ইউবোয়ার ক্যালসিসে চলে যান। তিনি ভয় করছিলেন তার অবস্থাও যেন প্লেটোর শিক্ষক সক্রেটিসের মতো না হয়। ক্যালসিসে প্রথম বছরই তিনি পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হন এবং খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

মেধাবী ও বুদ্ধিমান এই গ্রিক দার্শনিক জীবনের প্রায় প্রতিটি অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার করেছিলেন। বিজ্ঞান থেকে শুরু করে সাহিত্য, সংগীত, থিয়েটার, যুক্তি, দর্শন, বক্তৃতা, নীতিশাস্ত্র এবং রাজনীতি সকল ক্ষেত্রেই এই অত্যন্ত জ্ঞানী মনীষীটি তার মুন্সিয়ানার ছাপ রেখে গেছেন। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর নানা মূল্যবান উক্তি আজও সবার মনে দাগ কাটে ।

এই মহান দার্শনিকের বাণী ও উক্তিগুলো তাই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে পথ দেখাতে পারে । আসুন তাহলে জেনে নিই মহান দার্শনিক এরিস্টটল এর বিখ্যাত কিছু বাণী ও উক্তিসমূহ।


শিক্ষা নিয়ে এরিস্টটল এর বিখ্যাত কিছু বাণী:-

. শিক্ষার শেকড়ের স্বাদ তেঁতো হলেও এর ফল মিষ্টি ।- এরিস্টটল
২. বৃদ্ধ বয়সের শেষ রুযীই হলো শিক্ষা। -এরিস্টটল
৩. সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হল শিক্ষা।

বন্ধু ও বন্ধুত্ব নিয়ে এরিস্টটল এর বিখ্যাত কিছু উক্তি:-

১.  দু’টি দেহে একটি আত্মার অবস্থানই হলো বন্ধুত্ব ।- এরিস্টটল
২. প্রত্যেক নতুন জিনিসকেই উৎকৃষ্ট মনে হয়। কিন্তু বন্ধুত্ব যতই পুরাতন হয়, ততই উৎকৃষ্ট ও দৃঢ় হয়।
৩. আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু সেই-ই যে আমার কল্যাণ কামনা করে কেবল আমার কল্যাণের জন্যই।
৪. দুর্ভাগ্যবান তারাই যাদের প্রকৃত বন্ধু নেই। -এরিস্টটল
৫. যে সবার বন্ধু, সে আসলে কারোরই বন্ধু নয়। –এরিস্টটল

জ্ঞান ও সত্যতা নিয়ে এরিস্টটল এর বিখ্যাত কয়েকটি বাণী :-

১. সমস্ত জ্ঞানের সূত্রপাত হয় নিজেকে জানা থেকেই। 
২. অনুমান বা ধারনা থেকেই সত্যের উৎপত্তি।-এরিস্টটল
৩. হৃদয়কে শিক্ষিত না করে মনকে শিক্ষিত করা মোটেই শিক্ষা নয় ।
৪. জ্ঞানীরা ধন সঞ্চয় করেন অর্থ পিশাচদের মুখাপেক্ষী না হওয়ার জন্য। -এরিস্টটল
৫. জ্ঞানী লোক কখনও সুখের সন্ধান করে না। -এরিস্টটল
৬. প্রতিটি মানুষ কথা বলে এবং অভিনয় করে এবং তার চরিত্র অনুযায়ী জীবনযাপন করে।

রাজনীতি ,গণতন্ত্র ,সমাজ ও আইন নিয়ে এরিস্টটল এর বিখ্যাত উক্তি:-

১. একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতা সমগ্র জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
২. দার্শনিক হিসেবে আমার অর্জন এই যে, যা আমি নিজে নিজে করি, অন্যরা তা করে আইনের ভয়ে।
৩. যে ব্যক্তি সমাজের অন্তর্ভুক্ত নয় সে হয় ফেরেস্থা, নয় পশু। 
৪. মানুষ, যদি সে খাঁটি হয়, প্রাণীকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু আইন ও ন্যায়বিচার থেকে বিচ্ছিন্ন হলে সে হয় প্রাণীকুলের মধ্যে নিকৃষ্টতম, কারণ সশস্ত্র অন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক।

সুখ নিয়ে দার্শনিক এরিস্টটল এর বিখ্যাত কিছু বানী:

১. সুখ আমাদের উপর নির্ভর করে।
২. সুখই হলো জীবনের মূল অর্থ, উদ্দেশ্য, লক্ষ এবং সমাপ্তি।

ধৈর্য বিষয়ে এরিস্টটল এর বিখ্যাত বাণী :
১. ধৈর্য্য তিক্ত হলেও এর ফল মিষ্টি।

ভালোবাসা নিয়ে এরিস্টটল এর বিখ্যাত উক্তি:
১. দুটি পৃথক শরীরে বসবাসকারী এক আত্মার নামই হলো ভালোবাসা। -এরিস্টটল
 
জ্যোতির্বিদ্যার ক্ষেত্রেও এরিস্টটলের অধিকাংশ মতামতই ছিল ভ্রান্ত। এরিস্টটল লিখেছিলেন পৃথিবী স্থির। তাকে কেন্দ্র করে সৌরজগতের চাঁদ, তারা, সূর্য জ্যামিতিক পথে ঘুরছে। গ্যালিলিও প্রথমে এই ধারণাকে ভ্রান্ত বলে প্রমাণ করেন। তাঁর অভিমত ছিল, চাঁদের নিজস্ব আলো আছে। উত্তরকালে প্রমাণিত হয়েছে-চাঁদের কোন আলো নেই।

তাঁর এসব ভ্রান্ত মতামত কয়েক শতাব্দী ধরে সমাজকে চালিত করেছে। তার জন্য এরিস্টটলকে অভিযুক্ত করা যায় না। উত্তরকালের মানুষেরই দায়িত্ব ছিল তাঁর গবেষণার সঠিক মূল্যায়ন করা। কিন্তু সে কাজে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। এ সমস্ত ভ্রান্তি থাকার সত্বেও এরিস্টটল মানব ইতিহাসের এক শ্রেষ্ঠতম প্রাজ্ঞ-যার সৃষ্ট জ্ঞানের আলোয় মানুষ নিজেকে সমৃদ্ধ করেছে, মহত্তর পর্যায়ে উন্নত করেছে।

এরিস্টটল অনেক বিখ্যাত গ্রন্থ লিখেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হচ্ছে:

The Politics;

The Magna Moralia;

The Constitution of Athens;

The Ethics;

 




মন্তব্য লিখুন :