হারিয়ে গেছে বন্ধুদের তালের বাদা খাওয়ার দৃশ্য

বিস্তীর্ণ মাঠ। মাঠের কোলঘেঁষে আঁকাবাঁকা পথে ছুটে চলেছে ছোট্ট একটি খাড়ি। সেখানে পারের উপর এক পায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি তালগাছ। তালগাছের বাবরি ডালে লুকিয়ে রয়েছে রসে টইটম্বুর তালের শাঁস (তালের বাদা)

বলছিলাম শৈশবে দলছুট বন্ধুদের দুরন্তপনাই অথবা কখনো কখনো বাজি ধরে লোক চক্ষুর আড়ালে (চুরি করে) তালের শাঁস পেড়ে খাওয়ার দৃশ্যের কথা। এখন গ্রামের পথে ঘাটে আগের মত তালগাছ চোখে না পড়লেও গতকাল ঠিক এমনই দৃশ্যের দেখা মিলল। 

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার নয় নম্বর ওয়ার্ড জয়জয়পুর গ্রামের কিছু উচ্ছল স্বপ্নময় যুবক মহানন্দে গাছ থেকে তালের শাঁস পেড়ে ভাগ করে খেতে দেখা যায়। তালের শাঁসের মতো লোভনীয় খাবারের হারিয়ে যাওয়ার এমন দৃশ্যকে ধারণ করতে কাছে গিয়ে আলাপচারিতার ফাঁকে জানা হল তাদের পরিচয়। 

তালের শাঁস পারার গল্পের সাথে যোগ করতে গিয়ে সৈকত বলেন, এ সময় গ্রামে ভীষণ রোদ ও গরম পড়ে থাকে। আমরা প্রায় প্রতিদিন পাড়ার ছোট বড় সবাই মিলে এক জায়গায় বসে আড্ডা দিতাম খেলতাম। এখন লকডাউন স্কুল-কলেজ সব বন্ধ। তখন দুপুর, ভীষণ গরম সময় কাটছিল না তাই বরাবরের মতই ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা প্রকান্ড বটবৃক্ষের নিচে বড় ভাই মেহেদী হাসানসহ আমি ছোট ভাই জয়, শিহাব, রুহুল, বাঁধন, মুন্না, বাপ্পি, রাকিব, জয় সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ ছোট ভাই  বাঁধন বলে উঠলো, ভাইয়া ভীষণ গরম তৃষ্ণা পাচ্ছে একটা কাজ করা যায় না কি? চলেন তালের শাঁস পেড়ে খাই।

যা বলা তাই কাজ। কিন্তু গ্রামের তালের শাঁস পাড়তে গিযে ধরা খেয়ে যাব এই ভেবে সবাই মিলে চুপিসারে ছুটে এলাম এখানে। আঁকাবাঁকা নদীর ধারে তালের শাঁস পেরে খাওয়ার মজাটাই আলাদা। বরাবরের মত তালের শাঁস পাড়তে গাছে উঠেছিল জয়।

কথার কোনও এক ফাঁকে মেহেদী হাসানের আবেগ জড়ানো বক্তব্যে জানা গেল, আমার বাবা-মার কাছে গল্প শুনেছি তারাও ছোটবেলায় চুরি করে তালের শাঁস পেড়ে খেয়েছেন। শুধু বাবা-মা না পারার প্রতিবেশী সকলেরই শৈশবের এমন অনেক ইতিহাস রয়েছে।

জ্যৈষ্ঠ মাসে এ সময়ে মাঠ ফাটা রোদ অথবা পড়ন্ত বিকেলে বাবা-মার বকুনিকে পিছনে ফেলে গ্রামের একদল উচ্ছল তারুণ্যের ছুটে চলা, গৃহস্থের চোখের আড়ালে গাছে গাছে উঠে নানান ফল পেড়ে (সাবার) চুরি করা, ডানপিটে শৈশবের এমন স্মৃতগুলো এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। এখন তারুণ্যের স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে রবি ঠাকুরের তালগাছ।

একসময় গ্রামের আঁকাবাঁকা পথে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আড়ালে আবডালে তালের শাঁস চুরি করেনি এমন যুবক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। গ্রামের ছোট বড় সব শ্রেণী পেশার মানুষের শৈশবের স্মৃতিতে তালের শাঁস পেরে খাবার এমন অনেক উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়। শহরের আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামের হারিযে যাওয়া স্মৃতি গুলো এখনো মাঝে মাঝে হৃদয়ে নাড়া দিয়ে ওঠে।

মন্তব্য লিখুন :