হতাশা মুক্তির ৬ উপায়

"বক্ষ হইতে বাহির হইয়া আপন বাসনা মম

ফিরে মরীচিকা সম।

বাহু মেলি তারে বক্ষে লইতে বক্ষে ফিরিয়া পাই না।

যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না"

আমরা আমাদের যার যার অবস্থানে কেউই সুখী নই। কেউই আমরা "সুখ" নামক অলীক বস্তুটির পুরোপুরি হয়ত নাগাল পাইনা। হয়ত কেউ পাই। তাই আমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গাতে কম বেশি মন খারাপ করে থাকি। এটা অনেকটা আমাদের জ্বর কিংবা সর্দি হওয়ার মতোই একটি স্বাভাবিক বিষয়। জ্বর সর্দিকে বাড়তে দিলে যেমন সেটা টাইফয়েডে পরিণত হতে পারে। ঠিক তেমনই ছোটখাটো মন খারাপ যদি ভেতরে পুষে রাখা হয়, তাহলে সেটা চরম হতাশায় পরিণত হয়। যা মানুষের আত্মিক মৃত্যু ঘটায়।

তাই সময় থাকতে ছোট ছোট মন খারাপ বা হতাশাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তার জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। সেগুলো হলো:

১. মন খারাপ ধরে না রাখা: কারও হয়তো রেজাল্ট খারাপ হলো, কারও অফিসে পদন্নোতি না হয়ে অন্য কারও হলো, কিংবা কারও ব্রেক-আপ হলো। এরকম মন খারাপ আমাদের কম বেশি সবারই হয়। কিন্তু আমরা যদি এই মন খারাপ গুলোকে ধরে রাখি তাহলে সেটা চরম হতাশায় পরিণত হবে।

২. হতাশার বীজ নষ্ট করা: যদি কখনো মনে হতাশার জন্ম হয়, আর আমরা যদি সেটা বাড়তে দেই, তাহলে সেটা বাড়তে বাড়তে আমাদেরকে আত্মহত্যার পথে ধাবিত করবে। কারণ আমরা জানি নেতিবাচক কোনও কিছু কখনো ভালো কিছু বয়ে আনেনা।

৩. হতাশার কারণ বিশ্লেষণ: আমাদের ভেতর হতাশা আসলেই সেটার কারণ টা আগে বের করতে হবে। ধরুন আপনার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে, তাহলে এই খারাপ রেজাল্ট এর পেছনে কি কি কারণ থাকতে পারে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। নিজের দুর্বলতা কে খুঁজে পেলেই আপনি আরও বেশি দক্ষ হয়ে উঠবেন।

৪. সব কিছুতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা: আপনি হয়তো প্রথমবার কিছুতে ব্যর্থ হয়েছেন, থেমে যাবেন না। কারণ সৃষ্টিকর্তা হয়তো চাইছেন আরও বেশি দক্ষ হয়ে সফল হন। কারণ আপনি যদি ব্যর্থ না হতেন, তাহলে আপনি আপনার দুর্বলতা কে দূর করতে পারতেননা। তাই সব কিছুর মধ্যে ইতিবাচক কিছু খুঁজে বের করুন। আর এভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ খুঁজে বের করে সফল হওয়া যায়।

৫. হতাশার কারণ খুঁজে বের করা: ঠিক কি কারণে হতাশা বারবার ফিরে আসছে সেটা বের করে সেটা বন্ধ করতে হবে। আর এজন্য নিজেকে রিফ্রেশ করতে হবে। তার জন্য আমরা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পারি, আমাদের পছন্দের কাজ যেগুলো আমাদের আনন্দ দেয় সেগুলো করতে পারি। বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন কাজ করতে পারি। অথবা কিছু দিনের জন্য কোথাও ভ্রমেণে গিয়ে হাওয়া বদল করতে পারি। 

৬. অভিজ্ঞদের সাহায্য নেয়া: ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন। এই পর্যায়ের হতাশাটা অনেক বেশি মারাত্মক হয়ে থাকে। এ পর্যায়ে অনেক সময় মানুষ আত্মহত্যা করার চিন্তা ভাবনা করে থাকে। আর এ পর্যায়ে অবশ্যই অভিজ্ঞদের সাহায্য নিতে হবে। কারণ আমাদের হাত কেটে গেলে আমরা ওষুধ খেয়ে সুস্থ হতে পারি। কিন্তু হাত ভেঙে গেলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে গিয়ে প্লাস্টার করতে হবে। আমার হতাশা যদি আমি নিজে ঠিক করতে না পারি তাহলে অবশ্যই সাইকিয়াট্রিস্ট অথবা সাইকোলজিস্ট এর সাহায্য নিতে হবে। বর্তমানে স্বল্পমুল্যে ঢাকা বিশ্ববিধ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগে কাউন্সেলিং করানো হয়ে থাকে। এমনকি মায়া অ্যাপের মাধ্যমে কাউন্সেলিং করানো হয়।

এই ছয়টি উপায় অনুসরণ করেই নিজে নিজে কিংবা অন্যের সাহায্য নিয়ে একটু একটু  করে নিজের হতাশা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা যায়, জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সাফল্যের গন্তব্যে।


লেখকঃ প্রজ্ঞা ব্যানার্জী, শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


মন্তব্য লিখুন :