কর্মস্থলে না গেলে চাকরি চলে যাবে

আগামীকাল রোববার থেকে সব রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খোলার সিদ্ধান্ত হওয়ায় দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলের জেলাগুলোর কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। কঠোর লকডাউনেও স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই গাদাগাদি করে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা।

শনিবার সকালে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার কর্মমুখী মানুষ ফেরি থেকে নামছেন। কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়ি ছাড়া অন্য সব যানবাহন ও যাত্রী পারাপার নিষিদ্ধ থাকলেও সেই বিধিনিষেধের বালাই নেই ঘাট এলাকায়।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত  যেসব ফেরি দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে এসেছে, তার প্রতিটিতে নামে মাত্র পণ্যবোঝাই ট্রাক ছিল। ফেরির সবখানে ছিল মানুষ আর মানুষ। ফেরিতে পারাপার হওয়া যাত্রীদের অধিকাংশই পোশাক কারখানার শ্রমিক।

কর্মস্থলে ফেরার জন্য যে যেভাবে পারছেন আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তবে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৪ গুন বেশি ভাড়া দিয়ে  ফিরতে হচ্ছে তাদের।

ফেরিঘাটে কথা হয় মোখলেছুর রহমান নামের এক পোশাক শ্রমিকের সঙ্গে। তার বাড়ি নড়াইলে। কাজ করেন গাজীপুরের একটি রপ্তানিমুখী পোশাক তৈরি কারখানায়।

মোখলেছুর বলেন, গ্রামের বাড়ি থেকে ভোরে রওনা হয়ে অনেক কষ্ট  করে ভেঙে ভেঙে পাটুরিয়া ঘাটে আসতে সক্ষম হয়েছি। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে উঠতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে। পাটুরিয়া ঘাটে এসে দেখি যানবাহনের মহাসংকট। গাজীপুর পর্যন্ত ২০০ টাকার ভাড়া ১৫০০ টাকা নিচ্ছে। কিন্তু কিছুই করার নাই। যেতেই হবে, নয়তো চাকরি চলে যাওয়ার আশংকা আছে। 

দিয়া আক্তার (২৭) নামের আরেক নারী পোশাককর্মী জানালেন, শুক্রবার রাতে অফিসের অ্যাডমিন (প্রশাসন) থেকে ফোন দিয়ে বলেছে, সঠিক সময়ে অফিসে যেতে না পারলে চাকরি চলে যাবে। আমি যাব সাভারের বাইপাল এলাকায়। তাই চাকরি বাঁচাতে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া থেকে রওনা হয়েছি।

পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় শরিফ হোসেন (৪৫) নামের এক প্রাইভেটকার চালক বলেন, ঘাটে তেমন গাড়ি নাই। এজন্য গাড়ির অনেক চাহিদা। তাই ভাড়া একটু বেশি নিচ্ছি। তিনি বলেন, ভাড়া বেশি না নিলে লোকসান হয়ে যাবে। কারণ রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় ‘ম্যানেজ’ করে আমাদের চলতে হয়।

পাটুরিয়া থেকে গাবতলী কত টাকা ভাড়া নিচ্ছেন- জানতে চাইলে শরিফ হোসেন বলেন, যে যেখানেই নামুক, যাত্রীপ্রতি ভাড়া ১৫০০ টাকা।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কাযার্লয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) জিল্লুর রহমান জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন পারাপারের জন্য আটটি ফেরি নিয়োজিত আছে। তবে রোববার থেকে পোশাক কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত হওয়ায় যাত্রীরা এক প্রকার জোড় করেই ফেরিতে উঠছেন। তাই বাধ্য হয়ে তারা যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রীও পারাপার করছেন।

মন্তব্য লিখুন :