আমার কাছে ডিপ্রেশন মানে!

লেখক

কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের মনকে মাঝে মাঝে খুব বেশি খারাপ করে দেয়। যা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এই মন খারাপের মাত্রা যখন স্থায়িত্ব পেতে থাকে এবং যখন তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন সেটিকে ডিপ্রেশন বলে।

ডিপ্রেশন এক প্রকার ভয়ংকর মানসিক ব্যাধি। যা মানুষের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে এবং মানসিক বা শারীরিকভাবে অবমাননার স্বীকার হলে অনেকে বিষণ্ণতার স্বীকার হয়। অনেক সময় বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব বা অন্যান্য কাছের মানুষদের সাথে সম্পর্কহীনতা বা মতবিরোধ থেকে বিষণ্ণতা তৈরি হতে থাকে।

ডিপ্রেশন একটি জটিল রোগ। যা মানুষ এর অনুভূতি, চিন্তা-চেতনা ও কাজকর্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই নির্দিষ্ট করে কারো পক্ষেই বলা সম্ভব না এই ব্যাধি সম্পর্কে, কিন্ত অনেকের ক্ষেত্রেই কিছু কমন কারণ থাকে যার জন্য এ রোগের উৎপত্তি হতে পারে।

ডিপ্রেশনের কিছু কমন লক্ষণ রয়েছে, যেমন: শখের কাজগুলোতে ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, কোন কাজেই উৎসাহ না পাওয়া, নিজের রুমের বাইরে না যাওয়া এবং একা একা থাকতে চাওয়া। বিষণ্ণতার কারণে নিজেকে নিজের মধ্যে গুটিয়ে ফেলতে থাকে, এমন কি পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গ ভালো লাগে না। অনেক সময় সামাজিকতা অসহনীয় হয়ে দেখা দেবে এবং একাকীত্ব কাবু করে ফেলবে। কোন কাজে আগ্রহ খুঁজে না পাওয়া। সব কিছুতে নিজেকে অভিযুক্ত ভাবা। খাওয়াতে অনীহা এবং নিয়মিত খেতে না চাওয়া। তাছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে অনিদ্রা একটি অন্যতম লক্ষণ। 

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যার আশি ভাগেরই অনিদ্রার সমস্যা রয়েছে। যারা কি না বিষণ্ণতায় ভুগছেন। বিষণ্ণতার ফলে মানুষ একটা ঘোরের মধ্যে ঢুকে যেতে থাকে। কিংবা ঠিকভাবে মনোনিবেশ করতে পারে না কোন কিছুতে যা ঐ মানুষকে অবসাদগ্রস্ত করে তুলে।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির অন্যতম উপায় হলো নিজেকে নিজের সাহায্য করা। নিজের চেষ্টা না থাকলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় এক প্রকার অসম্ভব বিষয়। নিজেকে প্রতিদিন ব্যস্ত রাখতে হবে কাজকর্মে,খাওয়া-দাওয়া, এমনকি চিন্তা-ভাবনায়ও পরিবর্তন আনতে হবে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য।

ডিপ্রেশনে সময় মানুষের মনে বিভিন্ন রকমের নেগেটিভ চিন্তা আসতে থাকে। যেমন, নিজেকে সবচেয়ে খারাপ ভাবা, নিজের মত দুঃখ কারো নেই, সবার চেয়ে অসুস্থ, ব্যর্থ একজন মানুষ। এই ধরণের চিন্তাগুলো মানুষটির সুস্থ হওয়ার পথে সব চেয়ে বড় রকমের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই, এই নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে মন থেকে একবারে দূর করে দিতে হবে এবং চেষ্টা করতে হবে পজিটিভলি চিন্তা করার। কোনভাবেই আশাহত হওয়া যাবে না।

নতুন করে আবার সব শুরু করতে হবে। নতুন কোথাও ঘুরতে যাওয়া, মজার কোন বই পড়া, সিনেমা দেখতে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া। সবরকম চেষ্টা করতে হবে মন ভালো করার। মন ভালো থাকলে আস্তে আস্তে ডিপ্রেশন কমতে থাকবে এবং সব থেকে প্রয়োজন নিজেকে নিজের বিশ্বাস করতে হবে। আমি পারবো, এইটা প্রমাণ করতে হবে। 

মন্তব্য লিখুন :