শুরু হয়েছে টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা

গত ৮ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরুর পর ১৭ এপ্রিল শনিবার পর্যন্ত ১১ লাখ ৫১ হাজার ৭৬৭ জন টিকা নিয়েছেন। অন্যদিকে ওই একই তারিখ পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪২ জন। (সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর)

অর্থাৎ তথ্য অনুয়ায়ী, গত শনিবার পর্যন্ত দেশের ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ৮০৯ জন মানুষ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকার দুই ডোজ গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য, দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল গত ২৭ জানুয়ারি।

এরপর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এজন্য সরকার অবশ্যই সাধুবাদ পেতে পারে। তবে ভারত সরকার রপ্তানি স্থগিত করায় টিকা পাওয়া নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। পাশাপাশি এটাও সত্য যে, কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত ভারতে দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, দেশটিতে একদিনেই ২ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ভারতে সংক্রমণের হার বাড়ায় অত্যন্ত যৌক্তিকভাবেই অভ্যন্তরীণ টিকার চাহিদা বেড়েছে এবং এ অবস্থায় তারা এক ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। বস্তুত এমন এক পরিস্থিতিতেই দেশে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ডোজের টিকা কার্যক্রম। একইসঙ্গে প্রথম ডোজের কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান হারে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ প্রদান অব্যাহত থাকলে মজুত থাকা টিকা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার পরবর্তী চালান সময়মতো দেশে না এলে টিকা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা মোটেই কাম্য নয়। কাজেই সময়মতো টিকা পাওয়ার ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জোর প্রয়াস চালাতে হবে।

স্বস্তির বিষয় হলো, সরকার টিকা ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার প্রয়াস চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে বিকল্প উৎস থেকে টিকা আনার চেষ্টাও চালানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে চীন, রাশিয়া ও জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা কেনার জন্য একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অতএব টিকা সংকট দেখা দেবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস।

বিশ্বে করোনার টিকা কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিকেই বাংলাদেশও এ কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে, এটি দেশবাসীর জন্য অত্যন্ত স্বস্তির বিষয়।

করোনার টিকাদান কার্যক্রম নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব করোনা মহামারি মোকাবিলার প্রয়াসে এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। সারা বিশ্বের মানুষ প্রতীক্ষায় ছিল এ টিকার। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকে রীতিমতো ওলটপালট করে দিয়েছে করোনা নামের ভাইরাস।

এ মহামারিতে বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ পড়েছে আর্থিক সংকটে। মৃত্যু, শোক আর সংকটের মধ্যে কাটিয়েছে মানুষ।চ

এ প্রেক্ষাপটে জীবন ও জীবিকা দুটির সুরক্ষার জন্যই বড় প্রয়োজন ছিল করোনা টিকার। তবে টিকা নেওয়া মানেই করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা নয়। টিকা নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হতে পারে মানুষ। দেশে টিকা কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।


মন্তব্য লিখুন :