করোনায় বেকারত্ব দূরীকরণে কৃষির ভূমিকা

কোভিড-১৯ বেকারত্ব দূরীকরণে ও দেশের অর্থনীতিকে উন্নত করতে হলে কৃষি অর্থনীতির আধুনিকায়ন করতে হবে।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় পৃথিবীর উন্নত, মধ্যম এবং অনুন্নত দেশগুলো অর্থনীতিক ভাবে হিমশিম খাচ্ছে। রোগটির প্রাদুর্ভাব ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের, হুপেই প্রদেশের উহান নগরীতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ই মার্চ ২০২০ সালে রোগটিকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কথা প্রথম জানা যায় ৮ই মার্চ ২০২০ সালে এবং প্রথম মৃত্যুটি ঘটে ১৮ই মার্চ ২০২০ সালে। উন্নত, মধ্যম এবং অনুন্নত দেশগুলো কোভিড-১৯ মহামারির কারণে লক্ষ লক্ষ লোক চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে।

কোভিড-১৯ এর কারনে উন্নয়নশীল দেশে মাসের পর মাস লকডাউনে অনেক লোক কর্মহীন হয়ে গেছে। ফলে বেকারত্বের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে বলা বাহুল্য বেকারত্ব বলতে কর্মহীনতাকে বেকারত্ব বলা হয় না। অর্থনীতিবিদদের মতে, যখন কর্মক্ষম কোন ব্যক্তি প্রচলিত মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক হওয়া সত্ত্বেও তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায় না তখন সে অবস্থাকে বেকারত্ব বলা হয়। কোডিভ-১৯ কারণে শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে কর্মক্ষম লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা দেশে প্রচলিত মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও কাজ পায় না তখন সেই অবস্থাকেই বেকারত্ব বলা হয়। কোভিড-১৯ আবির্ভাবের পূর্বে বেকারত্ব ছিল এবং থাকবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে বেকারত্ব কয়েক গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বিশ্বে বেকারত্ব একটি মৌলিক সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। পৃথিবী সব দেশেই কম বেশি বেকারত্ব বিদ্যমান আছে। তবে বেকারত্বের ধরন এক রকম নয়। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের বেকারত্ব আছে যেমন-আকস্মিক বেকারত্ব, মৌসুমি বেকারত্ব, ছদ্মবেশী বেকারত্ব। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে দেশে আকস্মিক বেকারত্বের সংখ্যা বেড়ে গেছে, যা প্রতিটি ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে বেকারত্ব যেমন অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে তেমনি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বেকারত্ব মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বেকারত্বের ফলে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। বেকারত্ব দূরীকরণে কৃষি অর্থনীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি অর্থনীতি সাধারণত ঐ অংশ বুঝায় যা কৃষির সাথে জড়িত সব ধরনের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে পর্যালোচনা করে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে দেশে প্রাইভেট কোম্পানিগুলো তাদের কর্মকর্তা, কর্মচারী বেতন ভাতা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে অনেক কর্মকর্তা, কর্মচারীর চাকরি টিকে থাকা অনেক কঠিন হবে। শিল্পে, ব্যবসায়, বাণিজ্য প্রভৃতির অবস্থা সব সময় একরূপ থাকে না। বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এই দেশে অশিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত ও মূর্খ লোকগুলো কৃষি কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে কৃষি অর্থনীতি তেমন জোরালো ভাবে ভূমিকা পালন করতে পারছে না। দেশে বেকারত্ব দূরীকরণে শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের উচিত কৃষি কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হওয়া। এতে দেশে যেমন খাদ্য অভাব দূর হবে তেমনি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। কৃষি অর্থনীতি এক সময় আধুনিক অর্থনৈতিক মডেল হতে পারে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিদেশ থেকে কয়েক হাজার লোক চলে এসেছে। তাদের অবশ্যই কৃষি কাজে প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি আলোকে দেখা যাই যে একজন প্রাইভেট সেক্টরে চাকরি করা লোক একমুখী আয়ের উপর নির্ভর করতে হয়। যা দিয়ে পরিবারের ভরণ পোষণ, সন্তানের পড়ালেখা অন্যান্য কাজে খরচ করতে হয়। ফলে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সংকট পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আর যারা বর্তমানে কৃষক বা কৃষি কাজের সাথে জড়িত তারা একদিকে যেমন ধান, গম, ভুট্টা উৎপাদন করে, অন্যদিকে পুষ্টিকর জাতীয় শাক সবজি, মাছ, মাংস উৎপাদন করে যা পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বিক্রয় করে থাকে। সব সময় কৃষি কাজ করতে হয় না, অনেক সময় অন্যের জমিতে কাজ করে নগদ আয় বাড়ানো যায়। কৃষি এবং কৃষক বহুমুখী আয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের বহুমুখী আয় যাদের হাতে থাকবে তারা একমুখী আয়কারীদের থেকে অনেক ভালো থাকবে।

তাই শিক্ষিত, চাকুরীজীবী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আয়ের কিছু অংশ কৃষি খামারে ও কৃষি র্অনীতিতে বিনিয়োগ করা উচিত। কৃষি অর্থনীতির কয়েকটি খাত বা উপখাত রয়েছে, যেমন শস্য ও শাক সবজি, প্রাণীজ সম্পদ, বনজ সম্পদ, মৎস্য সম্পদ। তাই এদেশে কোভিড-১৯ বেকারত্ব দূরীকরণে ও দেশের অর্থনীতিকে উন্নত করতে হলে কৃষি অর্থনীতির আধুনিকায়ন করতে হবে। এই কাজটা একমাত্র শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা করতে পারবে এবং বেকারত্বের অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবে। কৃষি খাতের সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত হবে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ।


ফাহাদ হোসেন

স্নাতকোত্তর গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান ডিপ্লোমা

এম.এস.এস (অর্থনীতি)

বি.এস.এস(অনার্স)

মন্তব্য লিখুন :


আরও পড়ুন