টিকা কার্যক্রমই একমাত্র সমাধান

প্রায় দেড় বছর ধরে করোনার কারণে বিপর্যস্ত জনজীবন। চারদিকে হাহাকার, মৃত্যু এবং স্বজন হারা মানুষের আর্তনাদ। স্বজনহারা আত্মীয়-স্বজনদের চিৎকারে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস। দিন দিন যেন আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে করোনাভাইরাস।

বাংলাদেশ ২০২০ সালের ৮ ই মার্চ প্রথম চীনা ফেরত তিনজন ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর শুধু বেড়েই চলেছে সংক্রমণের চিত্র। ভাইরাসের প্রভাব ঠেকাতে সরকার ইতিমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিলেও সেগুলো ফলপ্রসূ হয়নি। বারবার লকডাউন বা শাটডাউন দেওয়ার পরেও ঠেকানো যাচ্ছে না সংক্রমণ।

মানুষের মাঝে অসচেতনতা দিন দিন যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অসহায় মধ্যবিত্ত মানুষ জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত বের হচ্ছে। অর্থনৈতিক অবস্থা সচল রাখার জন্য সরকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কলকারখানা চালু রাখার চেষ্টা করছে। তাই প্রতিনিয়ত মানুষকে কর্ম ক্ষেত্রে যাবার জন্য বাসা থেকে বের হতেই হচ্ছে। তাছাড়া চলাফেরায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাইছে না জনগণ। এ পর্যায়ে দ্রুত সবাইকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় নিয়ে আসাই একমাত্র সমাধান।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। তাই অতি দ্রুত শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা উচিত তাছাড়া হয়তো শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। ছাত্র-ছাত্রীরা একই ক্লাসে এক বছরেরও অধিক অবস্থান করার কারণে তাদের অনেকের মধ্যেই সেশন জটের শঙ্কা কাজ করছে।

এভাবে লকডাউন শাটডাউন দিয়ে খুব একটা লাভ হবেনা কারণ মানুষ তার জীবিকার তাগিদে বের হবেই তাছাড়া বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের সকল মানুষকে ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া এভাবে দিনের পর দিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে চলতে থাকলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এটা শুধুমাত্র আর শহরে সীমাবদ্ধ নেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস। রোগীর চাপ সামাল দিতে পারছেনা হাসপাতালগুলো। এছাড়া পর্যাপ্ত আই.সি. ইউ বেড সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সংকটসহ নানাবিধ কারণে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিনে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা পূর্বের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাই আর কালক্ষেপণ না করে যত দ্রুত সম্ভব সবাইকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় নিয়ে আসা হবে তত তাড়াতাড়ি করোনাভাইরাস এর ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ।

সরকারি তথ্য মতে এখন পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে গ্রামের মানুষের করোনা টিকা গ্রহণের কিছুটা অনীহা প্রকাশ পাচ্ছে। তাঁদেরকেও টিকা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সবার মাঝে সচেতনতা আরো বেশি জোরদার করতে হবে। করোনাভাইরাসের প্রভাব কাটিয়ে বিশ্বসহ বাংলাদেশ আবার স্বাভাবিক জীবনধারায় ফিরুক এই কামনা। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন খুব দ্রুত সবাইকে টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।


মোঃ আল মাহ মুদ

শিক্ষার্থী,আইন বিভাগ,

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য লিখুন :