পাহাড়সম রান করেও হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তান

প্রথম দুই ম্যাচে বাজে হারে পাকিস্তান সিরিজ খুইয়েছিল আগেই। তৃতীয় ম্যাচটি ছিল তাদের জন্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর। সে লক্ষ্যে ব্যাট হাতে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম একাই জ্বলে উঠলেন। খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। পাকিস্তান পেল ৩৩১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর। কিন্তু এমন স্কোরও মামুলি বানিয়ে ছাড়ল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ১২ বল হাতে রেখে দলটি জিতল ৩ উইকেটে। তিন ম্যাচ সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ট্রফি জিতল ইংলিশরা। শেষ ম্যাচে দারুণ খেলেও হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পেতে হলো পাকিস্তানের।

আগে ব্যাট করতে নেমে বাবর আজমের ১৫৮ রানের সুবাদে ৯ উইকেটে ৩৩১ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ভিঞ্চের সেঞ্চুরি ও গ্রেগরির ৭৭ রানের ইনিংস দলকে পাইয়ে দেয় দারুণ জয়। ম্যাচ সেরা জেমস ভিন্স।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৫৩ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারায় ইংল্যান্ড। ডাক মারেন মালান। ফিল সল্ট করেন ৩৭ রান। এরপরও রান উঠতে থাকে। উইকেটও পড়তে থাকে। ১৬৫ রানের মধ্যে পাচ উইকেট পড়লে একটু ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। তিনবার জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেন নাই বেন স্টোকস (৩২)। জ্যাক ক্রলি করেন ৩৯ রান। সিম্পসন করতে পারেন মাত্র ৩ রান।

ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ইংল্যান্ডের জয়ের ভিত গড়ে দেন জেমস ভিন্স ও লুইস গ্রেগরি। এই জুটিতে রান আসে ১২৯, ১১৬ বলে। শাহিনকে চার হাকিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতকের দেখা পান ভিন্স। ৯৫ বলে ১১টি চারে ১০২ রান করে হ্যারিস রউফের বলে আউট হন তিনি।

দলীয় রান তখন ইংল্যান্ডের ২৯৪। তিনশ অতিক্রম করার পর বিদায় নেন গ্রেগরিও। ৬৯ বলে ৭৭ রান করে তিনিও হ্যারিসের শিকার। এই জুটি বিদায়ের পর শঙ্কায় পড়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু লোয়ার অর্ডারের ভিতও বেশ শক্তিশালী ইংলিশদের। অষ্টম উইকেটে ওভারটন (১৮) ও কার্স (১২) অবিচ্ছিন্ন থেকে দলকে পাইয়ে দেন দারুণ জয়। বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে হ্যারিস রউফ ৪টি, শাদাব খান দুটি উইকেট পান।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের হয়ে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন অধিনায়ক বাবর আজম। করেন ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো দেড় শ'র বেশি রান। ১৩৯ বলে তিনি আউট হন ১৫৮ রান, ১৪ চার ও চারটি ছক্কা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে বাবরের আগের সর্বোচ্চ ছিল ১২৫ নট আউট। মোহাম্মদ রিজওয়ান করেন ৭৪ রান। ওপেনার ইমামুল হক করেন ৫৬ রান। ফাহিম আশরাফ করেন ১০। বাকিদের রান ছিল দুই অঙ্কের নিচে। বল হাতে ইংল্যান্ডের হয়ে ব্রাইডন কার্স নেন পাচ উইকেট। সাকিব মাহমুদ পান তিনটি। তিন ম্যাচে মোট ৯ উইকেট নেয়ার সুবাদে সিরিজ সেরার পুরস্কার পান সাকিব মাহমুদ।

ওয়ানডে সিরিজ শেষ। এবার টি-২০-এর পালা। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টি-২০ শুরু হবে আগামী ১৬ জুলাই নটিংহ্যামে। ১৮ ও ২০ জুলাই দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ।

মন্তব্য লিখুন :