ইঁদুরকেও সংক্রমিত করতে পারে করোনাভাইরাস

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার এই দীর্ঘ প্রাণীকূলের তালিকায় এবার যুক্ত হচ্ছে ইঁদুরের নাম।

ইঁদুরের মধ্যেও নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্প্রতি এক গবেষণার প্রতিবেদনে।

রডেন্ট প্রজাতির দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি না হলেও, এ ধরনের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগের কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিষেশজ্ঞরা।

গবেষণা দলের প্রধান জানান, তাদের গবেষণার ফলাফল বলছে, শুধু ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া ধরণটিই গবেষণাগারে ইঁদুরের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে প্রকৃতিতে থাকা মুক্ত ইঁদুরের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তাদের মতে, এই গবেষণার ফল বলছে, ভাইরাসটির নতুন ধরনের মিউটেশন বা অভিযোজনের সামর্থ্য আরও বেশি প্রজাতির দেহে এর সংক্রমণের সামর্থ্য বাড়িয়ে তুলবে।

প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটের জিন গবেষক এবং এ গবেষণা দলের প্রধান ড. জাভিয়ার মনতাগুতেলি জানান, চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাসের যে ধরনটি বিশ্বে ছড়িয়েছিল, সেটি তারা গবেষণাগারে ইঁদুরের নাকে প্রবেশ করিয়েছিলেন। সেই ভাইরাস গবেষণাগারের ইঁদুরকে সংক্রমিত করতে পারেনি।

ভাইরাসের বি.১.১.৭ ধরণটি, যেটি ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটিও ইঁদুরের দেহে প্রভাব ফেলতে পারেনি।

তবে করোনাভাইরাসের বি.১.১৫৩ ধরণটি, যেটি ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া গেছে, সেটি রডেন্টদের শরীরে বংশবিস্তারে সক্ষম বলে জানান ড. মনতাগুতেলি। মার্চের শুরুতে এই গবেষণাপত্রটি অনলাইনে প্রকাশ করা হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞান-বিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশের জন্য এটা পর্যালোচনা করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনার ভাইরাস বিশেষজ্ঞ টিমোথি শেহান, যিনি এই ফরাসি গবেষণা দলের অংশ নন, তিনি বলেন, “ভাইরাসটি বদলে যাচ্ছে, এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।”

তবে ইঁদুর নয়, বরং খামারের বা বাড়িতে থাকা পোষা প্রাণির দেহ থেকে মানুষে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে- এ আশঙ্কা নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন তিনি।

মন্তব্য লিখুন :